সর্বশেষ

Saturday, January 31, 2026

নিরাপত্তা শঙ্কায় বিসিবি, ক্রীড়া সাংবাদিকদের স্টেডিয়ামে প্রবেশে নতুন বিধিনিষেধ

নিরাপত্তা শঙ্কায় বিসিবি, ক্রীড়া সাংবাদিকদের স্টেডিয়ামে প্রবেশে নতুন বিধিনিষেধ

 


বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুলকে ঘিরে সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফিক্সিং তদন্তের গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে। দাবি করা হয়, তার বিরুদ্ধে তদন্ত করছেন বিসিবির ইন্টিগ্রিটি ইউনিটের প্রধান অ্যালেক্স মার্শাল। তবে এই খবরকে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে নিশ্চিত করেছেন মার্শাল নিজেই।

বিসিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সভাপতিকে নিয়ে এমন বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে মিরপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি)ও করেছে বিসিবি।

এই ঘটনার একদিন পরই মিরপুর শের-ই বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ক্রীড়া সাংবাদিকদের প্রবেশ নিয়ে নতুন ও কড়াকড়ি বিধিনিষেধ জারি করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। বিসিবির প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বোর্ডের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ ছাড়া ক্রীড়া সাংবাদিকরা স্টেডিয়ামে প্রবেশ করতে পারবেন না।

স্টেডিয়াম ও এর আশপাশের সার্বিক নিরাপত্তা জোরদার করার লক্ষ্যেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানায় বিসিবি। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, গণমাধ্যমে কর্মরত ব্যক্তিরা শুধুমাত্র স্টেডিয়ামের এক নম্বর গেট ব্যবহার করে ভেতরে প্রবেশ করতে পারবেন।

এ ছাড়া কোন কোন পরিস্থিতিতে সাংবাদিকদের মাঠে প্রবেশের সুযোগ থাকবে, সেটিও স্পষ্ট করেছে বিসিবি। মিরপুর স্টেডিয়ামে ম্যাচ অনুষ্ঠিত হলে ক্রীড়া সাংবাদিকরা মাঠে ঢোকার অনুমতি পাবেন। একইভাবে, কোনো আনুষ্ঠানিক প্রেস কনফারেন্স থাকলেও স্টেডিয়ামে প্রবেশ করা যাবে।

বিসিবি যদি কোনো ইভেন্টের জন্য নির্দিষ্টভাবে আমন্ত্রণ জানায়, সেক্ষেত্রে সাংবাদিকদের প্রবেশে বাধা থাকবে না। অনুশীলন কাভারের ক্ষেত্রেও বিসিবির পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হলে মাঠে যাওয়ার অনুমতি মিলবে।

তবে নিয়মের বাইরে চাইলেই প্রতিদিন স্টেডিয়ামে প্রবেশ করা যাবে না বলে জানানো হয়েছে। এই নির্দেশনা শুধু সাংবাদিকদের জন্য নয়, স্টেডিয়াম কমপ্লেক্সে প্রবেশকারী সকলের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হবে। বিসিবি জানিয়েছে, আগামী ৩১ জানুয়ারি থেকে নতুন এই বিধিনিষেধ কার্যকর হবে।


বিশ্বকাপের জার্সি উন্মোচন স্থগিত করল পাকিস্তান

বিশ্বকাপের জার্সি উন্মোচন স্থগিত করল পাকিস্তান



টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ইস্যুতে ভারত ও আইসিসির সঙ্গে টানাপোড়েনের পুরো সময়জুড়েই বাংলাদেশের পাশে থেকেছে পাকিস্তান। পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি শুরু থেকেই স্পষ্ট করে জানিয়েছিলেন, বাংলাদেশকে বিশ্বকাপে খেলতে না দেওয়া হলে পাকিস্তানের অংশগ্রহণ নিয়েও সরকারিভাবে আলোচনা করা হবে। এ বিষয়ে তিনি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফের সঙ্গেও বৈঠক করেন।

পিসিবি সূত্রে জানা গেছে, সোমবারের মধ্যেই টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে পাকিস্তানের অংশগ্রহণ নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হতে পারে। এরই মধ্যে বিশ্বকাপ বর্জনের গুঞ্জনের মধ্যেই ১৫ সদস্যের স্কোয়াড ঘোষণা করেছেন পিসিবির প্রধান নির্বাচক আকিব জাভেদ। একাধিক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বকাপে অংশ নিতে কলম্বোর উদ্দেশে পাকিস্তান দলের টিকিটও কাটা হয়েছে।

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি ম্যাচের পর পাকিস্তানের বিশ্বকাপ জার্সি উন্মোচনের পরিকল্পনা ছিল। তবে শেষ মুহূর্তে সেই অনুষ্ঠান স্থগিত করেছে পিসিবি। কেন এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। তবে পিসিবির ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

এর আগে নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগের কথা জানিয়ে ভারতে অনুষ্ঠিতব্য টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্তের কথা প্রকাশ করে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। একই সঙ্গে লিটন দাস ও মুস্তাফিজুর রহমানদের ম্যাচগুলো ভারত থেকে অন্য ভেন্যুতে সরিয়ে নেওয়ার দাবিতে আইসিসিকে চিঠি দেয় বিসিবি। বিষয়টি নিয়ে আইসিসির সঙ্গে একাধিকবার চিঠি চালাচালি ও বৈঠক হলেও নিজেদের অবস্থান পরিষ্কারভাবে তুলে ধরতে পারেনি বাংলাদেশ।

সম্প্রতি আইসিসির বোর্ড সভায়ও বাংলাদেশের প্রস্তাব নাকচ হয়ে যায়। ১৫ সদস্যের বোর্ডে একমাত্র পাকিস্তানই বাংলাদেশের পক্ষে ভোট দেয়। এমনকি বাংলাদেশের প্রতি সমর্থন জানিয়ে আইসিসিকে আলাদা চিঠিও পাঠায় পিসিবি।

গত কয়েক দিনে বারবার আলোচনা উঠেছে—আইসিসি যদি বাংলাদেশের দাবি মেনে না নেয়, তাহলে পাকিস্তানও বিশ্বকাপ বর্জনের পথে হাঁটতে পারে। এই ইস্যুতে বাংলাদেশের পাশে দাঁড়িয়েছেন পাকিস্তানের সাবেক ক্রিকেটার রশিদ লতিফ ও মোহাম্মদ শেহজাদ। এমনকি পিসিবির সাবেক চেয়ারম্যান নাজাম শেঠিও প্রকাশ্যে জানিয়েছেন, পাকিস্তান বিশ্বকাপ বর্জন করলে তিনি সেই সিদ্ধান্তকে সমর্থন করবেন।

Friday, January 30, 2026

এনভিডিয়ার এইচ-২০০ চিপ চীনে রফতানি অনুমোদন পেলো যুক্তরাষ্ট্র থেকে

এনভিডিয়ার এইচ-২০০ চিপ চীনে রফতানি অনুমোদন পেলো যুক্তরাষ্ট্র থেকে



টেক জায়ান্ট এনভিডিয়ার ‘এইচ-২০০’ এআই চিপ চীনে রফতানি করার অনুমতি দিয়েছে ওয়াশিংটন। মার্কিন ডিপার্টমেন্ট অব কমার্স জানিয়েছে, এই চিপগুলো চীনে পাঠানো যাবে যদি মার্কিন বাজারে পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকে। তবে চীনা গ্রাহকদের নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দেখাতে হবে এবং চিপগুলো মিলিটারি কাজে ব্যবহার করা যাবে না।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, এই সিদ্ধান্ত দুটি দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে সাহায্য করবে। এনভিডিয়ার ‘এইচ-২০০’ প্রসেসর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন এআই চিপ হিসেবে বিশ্বব্যাপী চাহিদা অর্জন করেছে। দীর্ঘদিন ধরে চীনে রফতানি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে আলোচনা চলছিল। মূল প্রশ্ন ছিল—চিপ বিক্রি অব্যাহত রাখলে মার্কিন কোম্পানিগুলো প্রযুক্তিতে এগিয়ে থাকবে কি না, নাকি রফতানি সীমিত করলে জাতীয় নিরাপত্তা আরও সুরক্ষিত হবে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ট্রাম্পের ঘোষণা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ইতিবাচক। এআই চিপ রফতানি লাভজনক হলেও জাতীয় নিরাপত্তা বিবেচনা করা প্রয়োজন। বিশেষ করে, চীন এআই প্রযুক্তিতে গত কয়েক বছরে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি করেছে। ফলে, এই চিপগুলো চীনে গেলে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কিছু ঝুঁকি থাকতে পারে।

এদিকে, বেইজিং ইতিমধ্যেই দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে মার্কিন প্রযুক্তি ব্যবহার না করার পরামর্শ দিয়েছে। তাই ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্ত চিপ বিক্রি বাড়াবে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

ফ্রি ব্যবহারকারীদের জন্য ChatGPT-এ আসছে বিজ্ঞাপন: OpenAI-এর ঘোষণা

ফ্রি ব্যবহারকারীদের জন্য ChatGPT-এ আসছে বিজ্ঞাপন: OpenAI-এর ঘোষণা

 


কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক জনপ্রিয় চ্যাটবট ChatGPT-এ এবার বিজ্ঞাপন যুক্ত করা হচ্ছে। এআই কোম্পানি OpenAI জানিয়েছে, খুব শীঘ্রই পরীক্ষামূলকভাবে এই বিজ্ঞাপন চালু করা হবে।

শুরুর দিকে, যুক্তরাষ্ট্রে ফ্রি এবং কম স্তরের সাবস্ক্রিপশন ব্যবহারকারীদের জন্য এই বিজ্ঞাপন প্রদর্শিত হবে। প্রতিষ্ঠানটি বলেছে, ChatGPT-এর ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তার সঙ্গে পরিচালন ব্যয়ও দ্রুত বেড়ে যাচ্ছে। সেই ব্যয় সামলানোর জন্য নতুন আয়ের উৎস হিসেবে বিজ্ঞাপন চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

পরীক্ষামূলকভাবে শুরু হওয়া এই বিজ্ঞাপন কার্যক্রম সফল হলে ভবিষ্যতে অন্যান্য দেশেও এবং বিস্তৃত পরিসরে এটি চালু হতে পারে। তবে প্রিমিয়াম বা পেইড ব্যবহারকারীরা আপাতত বিজ্ঞাপনের আওতার বাইরে থাকবেন।

বিশ্লেষকরা বলছেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার আরও প্রসারিত হলেও, বিজ্ঞাপন ব্যবহারকারীর অভিজ্ঞতাকে কতটা প্রভাবিত করবে, সেটাই এখন নজরের বিষয়।

টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬-এর অফিসিয়াল গান ‘Feel the Thrill’ উন্মোচন করল আইসিসি

টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬-এর অফিসিয়াল গান ‘Feel the Thrill’ উন্মোচন করল আইসিসি


আসন্ন আইসিসি মেনস টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬ সামনে রেখে উত্তেজনার পারদ আরও বাড়িয়ে দিল আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)। শুক্রবার টুর্নামেন্টের অফিসিয়াল থিম সং হিসেবে প্রকাশ করা হয়েছে ‘Feel the Thrill’ শিরোনামের গানটি।



গানটি ইতোমধ্যে স্পটিফাই, অ্যাপল মিউজিক, অ্যামাজন মিউজিক, জিওসাভন, ইউটিউব মিউজিকসহ ইনস্টাগ্রাম ও ফেসবুকের মতো বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে শোনা যাচ্ছে।

উদ্দীপনাময় এই গানটির সুর ও কণ্ঠ দিয়েছেন জনপ্রিয় ভারতীয় সংগীত পরিচালক ও গায়ক অনিরুধ রবিচন্দর। বিশ্বকাপের উত্তেজনা ও আবেগকে সুরের মাধ্যমে তুলে ধরাই এই গানের মূল লক্ষ্য। আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি শুরু হতে যাওয়া টুর্নামেন্টের আগে এটি ক্রিকেটপ্রেমীদের মধ্যে আলাদা রোমাঞ্চ তৈরি করছে।

গানের কথায় ফুটে উঠেছে প্রতিদ্বন্দ্বিতার তীব্রতা। “যখন দেশগুলো মুখোমুখি হয়, তখন খেলা শুধু দেখা হয় না, তা অনুভব করা হয়”— এমন শক্তিশালী বার্তার মধ্য দিয়ে টি–টোয়েন্টি ক্রিকেটের আগ্রাসী ও আবেগী রূপ তুলে ধরা হয়েছে।

আইসিসির আশা, ‘Feel the Thrill’ গানটি মেনস টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬-কে ঘিরে বিশ্বজুড়ে দর্শকদের উন্মাদনা আরও বাড়িয়ে তুলবে।

Thursday, January 29, 2026

বাংলাদেশের জন্য লজ্জা! বিপিএলে আবারও মাথাচাড়া দিল দীর্ঘদিনের পারিশ্রমিক সংকট

বাংলাদেশের জন্য লজ্জা! বিপিএলে আবারও মাথাচাড়া দিল দীর্ঘদিনের পারিশ্রমিক সংকট



বাংলাদেশ ক্রিকেটে যেন বিশৃঙ্খলা পিছু ছাড়ছেই না। টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬ থেকে হতাশাজনক বিদায়ের পর এবার আবারও বিতর্কে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল)। টুর্নামেন্ট শেষ হতেই নতুন করে সামনে এসেছে খেলোয়াড়দের পারিশ্রমিক না পাওয়ার অভিযোগ।

বিপিএলের ১২তম আসর শেষ হওয়ার পর গভর্নিং কাউন্সিল সব ফ্র্যাঞ্চাইজির কাছে বকেয়া পরিশোধের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠিয়েছে। ২৭ জানুয়ারি পাঠানো ওই চিঠিতে ১৫ দিনের মধ্যে সব পাওনা পরিশোধের নির্দেশ দেওয়া হয়।

খেলোয়াড়দের ক্ষোভ, পুরনো সমস্যার পুনরাবৃত্তি

বিপিএলে পারিশ্রমিক জট নতুন কিছু নয়। আগের আসরগুলোতেও বারবার দেখা গেছে বিলম্ব বা পুরো টাকা না পাওয়ার ঘটনা। এমনকি অতীতে খেলোয়াড়রা পারিশ্রমিক না পেয়ে দল ছাড়তেও বাধ্য হয়েছেন।

এক পর্যায়ে আর্থিক সংকটে পড়ে মালিকানা ছেড়ে দেয় চট্টগ্রাম রয়্যালস। এবারের আসর শেষ হওয়ার পরও একই চিত্র। বেশ কয়েকটি দলের খেলোয়াড় এখনো পুরো পারিশ্রমিক পাননি বলে অভিযোগ উঠেছে।

নোয়াখালী এক্সপ্রেসের এক খেলোয়াড় নাম প্রকাশ না করার শর্তে গণমাধ্যমকে জানান, ফ্র্যাঞ্চাইজি তাদের মোট পারিশ্রমিকের মাত্র ২৫ শতাংশ পরিশোধ করেছে। বাকি ৭৫ শতাংশ এখনো বকেয়া। আরও গুরুতর বিষয় হলো, ২০ জানুয়ারি খেলোয়াড়দের দেওয়া চেক বাউন্স করেছে।

ডেইলি স্টারকে তিনি বলেন, “আপনি অন্য খেলোয়াড়দের কাছেও জিজ্ঞেস করতে পারেন। ২০ জানুয়ারি আমাদের সবার চেক বাউন্স করেছে।”

২০২৫–২৬ মৌসুমে বিপিএলে নতুন দল হিসেবে যাত্রা শুরু করে নোয়াখালী এক্সপ্রেস। দলের একাধিক খেলোয়াড় একই অভিযোগ করেছেন, যদিও তারা এখনো বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) ওপর আস্থা রাখছেন।

ওই খেলোয়াড় আরও বলেন, “বিসিবি আমাদের কাছে পারিশ্রমিকের বিষয়ে খোঁজ নিয়েছে। আমরা আশা করছি খুব শিগগিরই বাকি টাকা পরিশোধ করা হবে।”

একাধিক ফ্র্যাঞ্চাইজিতে একই চিত্র

নোয়াখালীর পাশাপাশি ঢাকা ক্যাপিটালসের খেলোয়াড়রাও জানিয়েছেন, টুর্নামেন্ট চলাকালীন তারা মাত্র ২৫ শতাংশ পারিশ্রমিক পেয়েছেন। পরে অল্প কিছু টাকা যোগ হলেও পুরো বকেয়া এখনো মেটানো হয়নি। গত সপ্তাহে ঢাকা ক্যাপিটালস কর্তৃপক্ষ জানায়, চলতি সপ্তাহেই সব পাওনা পরিশোধ করা হবে।

অন্যদিকে রাজশাহী ওয়ারিয়র্স খেলোয়াড় ও স্টাফদের সব পারিশ্রমিক পরিশোধ করেছে। রংপুর রাইডার্সও তাদের সব দেনা শোধ করেছে বলে জানিয়েছে।

তবে সিলেট টাইটান্সের এক খেলোয়াড় জানান, তিনি এখনো মাত্র ৫০ শতাংশ টাকা পেয়েছেন। আর মালিকানা বাতিল হওয়া চট্টগ্রাম রয়্যালসের খেলোয়াড়দের পারিশ্রমিক বিসিবি পরিশোধ করবে বলে জানা গেছে।

বিসিবির আশ্বাস

বিপিএল সদস্য সচিব ইফতিখার রহমান মিঠু স্বীকার করেছেন, কয়েকটি ফ্র্যাঞ্চাইজি এখনও পারিশ্রমিক পরিশোধে পিছিয়ে আছে। তবে তিনি আশ্বস্ত করেন, প্রয়োজনে ব্যাংক গ্যারান্টি ও ফ্র্যাঞ্চাইজি ফি ব্যবহার করে সব বকেয়া পরিশোধ করা হবে।

তিনি বলেন, “নোয়াখালীর মোট বকেয়া প্রায় ১ কোটি ৪৫ লাখ টাকা। তাদের কাছ থেকে আমাদের কাছে ২ কোটি টাকা ফ্র্যাঞ্চাইজি ফি রয়েছে। ঢাকার ক্ষেত্রে ৫ কোটি টাকার ব্যাংক গ্যারান্টি আছে। চেক বাউন্স হয়েছে ঠিকই, কিন্তু আমাদের হাতে খেলোয়াড়দের পরিশোধের জন্য পর্যাপ্ত অর্থ রয়েছে।”

তিনি আরও যোগ করেন, “২৭ তারিখ আমরা চিঠি দিয়েছি। ১৫ দিনের মধ্যে সব ফ্র্যাঞ্চাইজিকে পরিশোধ সম্পন্ন করে খেলোয়াড়, কোচিং স্টাফ ও ম্যানেজমেন্টের তালিকা দিতে হবে। আমরা প্রত্যেকের সঙ্গে যোগাযোগ করে তা যাচাই করব।”

বিপিএলের পুরনো ক্ষত

২০১২–১৩ মৌসুমে যাত্রা শুরুর পর থেকেই বিপিএলে পারিশ্রমিক সংকট নিয়মিত সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রথম আসরেই অনেক খেলোয়াড় পুরো বেতন পাননি। সেই মৌসুমে সাবেক অধিনায়ক মোহাম্মদ আশরাফুল জড়িত স্পট ফিক্সিং কেলেঙ্কারির কারণে এক মৌসুমের জন্য টুর্নামেন্ট স্থগিতও হয়েছিল।

২০২৪–২৫ মৌসুমে দুর্বার রাজশাহী খেলোয়াড়রা বেতন, দৈনিক ভাতা ও হোটেল বিল না পাওয়ায় ম্যাচ বয়কট করেন, যা বড় বিতর্কের জন্ম দেয়।

সব বিতর্কের মধ্যেও সর্বশেষ আসর শেষ হয় এবং রাজশাহী ওয়ারিয়র্স শিরোপা জেতে। তবে টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬ থেকে বাংলাদেশের বিতর্কিত বিদায় এবং আইসিসি ও বিসিসিআইয়ের সঙ্গে টানাপোড়েনের প্রেক্ষাপটে বিপিএলের এই পারিশ্রমিক কেলেঙ্কারি দেশের ক্রিকেটকে আবারও অস্বস্তিকর অবস্থায় ফেলেছে।

ভারতে বিশ্বকাপে অংশ নিতে অনিচ্ছুক ইংল্যান্ডের মূল কারণ

ভারতে বিশ্বকাপে অংশ নিতে অনিচ্ছুক ইংল্যান্ডের মূল কারণ



নিপা ভাইরাসের সম্প্রতি প্রাদুর্ভাবের কারণে ইংল্যান্ডের দল ভারতের মাঠে খেলতে আপত্তি জানিয়েছে। পাকিস্তানের জিএনএন-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউরোপের কয়েকটি দেশও একই কারণে ভারতে বিশ্বকাপ আয়োজন নিয়ে সতর্ক।

জিএনএন-এর এক প্রোগ্রামে বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন, ‘ভারতের শুরুতেই নিরাপত্তা ব্যবস্থা যথেষ্ট কার্যকর ছিল না। ভাইরাসটি বেঙ্গলে ছড়িয়ে পড়েছে, যা বাংলাদেশের সীমান্তের কাছে। পরিস্থিতি এমন, পুরো টুর্নামেন্ট শ্রীলঙ্কায় সরানোও সহজ নয়।’

শ্রীলঙ্কায় সব ম্যাচ আয়োজন করা সম্ভব হলেও সীমিত ভেন্যু ও সময়ের কারণে এটি খুব কঠিন। বিশেষ করে কয়েকদিন আগে বাংলাদেশকে বিশ্বকাপ থেকে বাদ দেওয়ার পর এই যুক্তিতে ভেন্যু পরিবর্তন কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। জিএনএন-এর খবরে বলা হয়েছে, ‘ভারতে ভাইরাসের সংক্রমণ ক্রমেই ভয়াবহ আকার নিচ্ছে। স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য মাস্ক, গগলস ও পিপিই ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে ভারতের ন্যাশনাল সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোলের নির্দেশনা অনুযায়ী।’

আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য সংস্থা জানাচ্ছে, নিপা ভাইরাসের মৃত্যু হার ৪০-৭৫ শতাংশের মধ্যে, যা করোনাভাইরাসের তুলনায় অনেক বেশি। এই কারণেই ইংল্যান্ডসহ কয়েকটি দেশ তাদের দল ভারতে পাঠাতে অনিচ্ছুক।

টি-২০ বিশ্বকাপের ২০ দলের মধ্যে মাত্র ২০টি ম্যাচ শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিত হবে, বাকি সব ভারতে। এতগুলো ম্যাচ সরানো বা ভেন্যু পরিবর্তন করা আইসিসির জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলকে তাই এখন অত্যন্ত সতর্কভাবে সিদ্ধান্ত নিতে হবে, কারণ সময় কম এবং স্বাস্থ্যঝুঁকি অনেক বেশি।

বিশ্বমিডিয়াও ভারতে ভাইরাসের ভয়াবহতা তুলে ধরছে, যা আরও উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। খেলোয়াড় ও দর্শক উভয়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

অস্ট্রেলিয়া হারিয়ে তিন ম্যাচ সিরিজে লিড নিয়েছে পাকিস্তান

অস্ট্রেলিয়া হারিয়ে তিন ম্যাচ সিরিজে লিড নিয়েছে পাকিস্তান



তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথম ম্যাচে পাকিস্তান অস্ট্রেলিয়াকে ২২ রানে হারিয়ে সিরিজে লিড নিয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে স্বাগতিক পাকিস্তান ১৬৯ রানের লক্ষ্যে ব্যাটিং শুরু করা অজিদের প্রতিরোধ ভেঙে দেয়। অস্ট্রেলিয়া ১৪৬ রানে থেমে যায় এবং প্রথম ম্যাচের জয় নিশ্চিত করে পাকিস্তান।

পাকিস্তান প্রথমে ব্যাট করতে নেমে শুরুতে শাহিবজাদা ফারহানকে হারায়। তবে সায়েম আইয়ুব ও সালমান আঘারের মধ্যকার ৭৪ রানের জুটি দলের জন্য শক্ত ভিত্তি তৈরি করে। সায়েম ৪০ রান করে ফেরেন, আর সালমান আঘার ৩৯ রান করে দলের পুঁজি শক্তিশালী করেন। দলের ক্যাপ্টেন বাবর আজম ২৪ রানে আউট হন। ধারাবাহিক উইকেট হারার পর পাকিস্তান নির্ধারিত ২০ ওভারে ১৬৮ রানে ইনিংস শেষ করে। অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে সবচেয়ে সফল বোলার ছিলেন অ্যাডাম জাম্পা, যিনি ৪টি উইকেট নেন।

অজিদের জবাবে শুরুতে ম্যাথু শর্ট হারলেও ট্রাভিস হেড ও ক্যামেরুন গ্রিন জুটি গড়ে প্রতিরোধ চালান। তবে তাদের বিদায়ের পর অজিদের মিডল অর্ডার ভেঙে পড়ে। শেষ দিকে জেভিয়ার ৩৪ রানে অপরাজিত থাকলেও ম্যাচে ফেরাতে পারেননি। অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং লাইন ওপেনিং ও মিডল অর্ডারের ব্যর্থতায় বড় স্কোর তুলতে পারেনি।

ম্যাচ শেষে পাকিস্তানের জবাবে ব্যাটিং ও বোলিং উভয় বিভাগে ভালো পারফরম্যান্স ছিল উল্লেখযোগ্য। বোলাররা নিয়মিত বিরতিতে উইকেট তুলে নেন এবং ফিল্ডাররা গুরুত্বপূর্ণ ক্যাচ ও রান আউট করে অজিদের চাপের মধ্যে রেখেছে। বিশেষ করে অ্যাডাম জাম্পার বোলিংই অস্ট্রেলিয়ার ধীরগতির ইনিংসকে ভেঙে দেয়।

এই জয়ের মাধ্যমে পাকিস্তান সিরিজে ১-০ লিড নিল। সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচ হবে আগামী শনিবার একই মাঠে, বাংলাদেশ সময় বিকেল ৫টায়। দ্বিতীয় ম্যাচে অজিদরা নিজেদের খেলার ছন্দ ফেরাতে চেষ্টা করবে, আর পাকিস্তান প্রথম ম্যাচের জয়কে ধারাবাহিক করতে চাইবে। সিরিজের ফলাফল দক্ষিণ এশিয়ার ক্রিকেট ভক্তদের জন্য কৌতূহল জাগাচ্ছে, বিশেষ করে অস্ট্রেলিয়া-পাকিস্তান দ্বৈরথ সবসময় উত্তেজনাপূর্ণ হয়।

টেংরাটিলা গ্যাসক্ষেত্র বিস্ফোরণ মামলায় বাংলাদেশের পক্ষে রায়, ক্ষতিপূরণ ৪২ মিলিয়ন ডলার

টেংরাটিলা গ্যাসক্ষেত্র বিস্ফোরণ মামলায় বাংলাদেশের পক্ষে রায়, ক্ষতিপূরণ ৪২ মিলিয়ন ডলার

 


টেংরাটিলা গ্যাসক্ষেত্রে ২০০৫ সালের ভয়াবহ বিস্ফোরণ সংক্রান্ত মামলায় আন্তর্জাতিক আদালতে বাংলাদেশের পক্ষে রায় এসেছে। রায়ে কানাডাভিত্তিক জ্বালানি কোম্পানি নাইকোকে ক্ষতিপূরণ হিসেবে বাংলাদেশকে ৪২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার পরিশোধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় ৫১৬ কোটি টাকা, প্রতি ডলার ১২৩ টাকা ধরে হিসাব করা হয়েছে।

ওয়াশিংটনভিত্তিক আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনাল ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর সেটেলমেন্ট অব ইনভেস্টমেন্ট ডিসপিউটস (আইসিএসআইডি) এই রায় ঘোষণা করে। বৃহস্পতিবার পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান প্রকৌশলী রেজানুর রহমান বিষয়টি সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, বিস্ফোরণের ফলে গ্যাসক্ষেত্রে প্রায় ৮ বিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পুড়ে যাওয়ায় ক্ষতির জন্য ৪০ মিলিয়ন ডলার এবং পরিবেশসহ অন্যান্য ক্ষতির জন্য অতিরিক্ত ২ মিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সুনামগঞ্জের ছাতকে অবস্থিত টেংরাটিলা গ্যাসক্ষেত্রটি ১৯৫৯ সালে আবিষ্কৃত হয়। পরবর্তী সময়ে কূপ খননের মাধ্যমে এক হাজার ৯০ মিটার থেকে এক হাজার ৯৭৫ মিটার গভীরতায় মোট নয়টি গ্যাস স্তরের সন্ধান পাওয়া যায়। দীর্ঘ বিরতির পর ২০০৩ সালে গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলনের দায়িত্ব দেওয়া হয় কানাডিয়ান কোম্পানি নাইকোকে।

খননকাজ শুরুর দুই বছরের মাথায়, ২০০৫ সালের ৭ জানুয়ারি ও ২৪ জুন গ্যাসক্ষেত্রে পরপর দুটি বড় ধরনের বিস্ফোরণ ঘটে। এতে বিপুল পরিমাণ গ্যাস পুড়ে যায় এবং আশপাশের অবকাঠামো ও সম্পদের ব্যাপক ক্ষতি হয়।

ঘটনার পর বাংলাদেশ সরকার নাইকোর কাছে ৭৪৬ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি করলেও প্রতিষ্ঠানটি তা দিতে অস্বীকৃতি জানায়। পরে ২০১৬ সালে প্রায় ৯ হাজার ২৫০ কোটি টাকার ক্ষতিপূরণ দাবিতে ওয়াশিংটনের আন্তর্জাতিক আদালতে মামলা করে বাংলাদেশ।

পেট্রোবাংলার তথ্যমতে, আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনাল রায়ে উল্লেখ করেছে যে খনন কার্যক্রম পুরোপুরি নাইকোর তত্ত্বাবধান ও ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত হচ্ছিল। আন্তর্জাতিক পেট্রোলিয়াম শিল্পের স্বীকৃত মানদণ্ড অনুসরণ না করা এবং প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বনে ব্যর্থ হওয়ার কারণেই বিস্ফোরণ ঘটে। এসব কারণ বিবেচনায় নাইকোকেই দায়ী করে বাংলাদেশকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ ঘিরে কড়া নিরাপত্তা, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬ নিয়ে সতর্ক শ্রীলঙ্কা

ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ ঘিরে কড়া নিরাপত্তা, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬ নিয়ে সতর্ক শ্রীলঙ্কা



টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬কে সামনে রেখে বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে শ্রীলঙ্কা। বিশেষ করে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যকার হাই-ভোল্টেজ ম্যাচ ঘিরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হচ্ছে। উপমহাদেশের বর্তমান উত্তপ্ত রাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যে খেলোয়াড় ও দর্শকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬-এ পাকিস্তান তাদের সব ম্যাচ শ্রীলঙ্কায় খেলবে। গ্রুপ ‘এ’-তে থাকা পাকিস্তান প্রথমে সিনহালিজ স্পোর্টস ক্লাবে নেদারল্যান্ডস ও যুক্তরাষ্ট্রের মুখোমুখি হবে। এরপর ১৫ ফেব্রুয়ারি বহুল প্রতীক্ষিত ম্যাচে ভারতের বিপক্ষে লড়াইয়ে নামবে মেন ইন গ্রিন।

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬-এর আগে কড়া নিরাপত্তা নিচ্ছে শ্রীলঙ্কা

যদিও ভারত এই টুর্নামেন্টের অন্যতম আয়োজক দেশ, আইসিসির একটি চুক্তির আওতায় পাকিস্তান তাদের ম্যাচগুলো শ্রীলঙ্কায় খেলছে। এই চুক্তি অনুযায়ী, কোনো দল চাইলে রাজনৈতিক বা নিরাপত্তাজনিত কারণে নিরপেক্ষ ভেন্যু বেছে নিতে পারে।

‘মাদার অব অল ব্যাটলস’ নামে পরিচিত ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ সবসময়ই বিশ্ব ক্রিকেটে আলাদা আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু। ক্রিকেটের বাইরেও দুই দেশের সম্পর্কের টানাপোড়েন এই লড়াইকে আরও উত্তেজনাপূর্ণ করে তোলে।

এই ম্যাচ ঘিরে বিশ্বজুড়ে ক্রিকেটপ্রেমীদের আগ্রহ থাকে তুঙ্গে। স্টেডিয়ামে খেলা দেখতে ভারত ও পাকিস্তান থেকে বিপুল সংখ্যক দর্শকের উপস্থিতি প্রত্যাশা করা হচ্ছে। সেই কারণেই খেলোয়াড় ও সমর্থকদের জন্য নির্বিঘ্ন অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করতে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে শ্রীলঙ্কা।

ডেইলি সান-এর বরাতে পুলিশ ও নিরাপত্তা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অংশগ্রহণকারী সব দলের নিরাপত্তায় রাষ্ট্রপ্রধানদের পাহারায় নিয়োজিত এলিট কমান্ডো ইউনিট মোতায়েন করা হবে।

তারা আরও জানান, বিমানবন্দর থেকে শুরু করে খেলোয়াড়দের ফেরত যাওয়া পর্যন্ত পুরো সময়জুড়েই সশস্ত্র নিরাপত্তা বলয়ে রাখা হবে দলগুলোকে।

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬-এ শ্রীলঙ্কা কোন কোন ম্যাচ আয়োজন করবে?

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬-এ শ্রীলঙ্কা মোট ২০টি ম্যাচ আয়োজন করবে। এই ম্যাচগুলো অনুষ্ঠিত হবে দুটি শহরের তিনটি ভেন্যুতে—কলম্বো ও পাল্লেকেলে।

কলম্বোর ঐতিহাসিক আর. প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে বেশ কয়েকটি হাই-প্রোফাইল ম্যাচ, যার মধ্যে সবচেয়ে আকর্ষণীয় ভারত-পাকিস্তান লড়াইটি রয়েছে। অন্যদিকে, সিনহালিজ স্পোর্টস ক্লাবে অনুষ্ঠিত হবে পাকিস্তান-নেদারল্যান্ডস, জিম্বাবুয়ে-ওমান, পাকিস্তান-যুক্তরাষ্ট্র, আয়ারল্যান্ড-ওমান এবং পাকিস্তান-নামিবিয়া ম্যাচগুলো।

এছাড়া পাল্লেকেলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে শ্রীলঙ্কা-ওমান, অস্ট্রেলিয়া-শ্রীলঙ্কা, আয়ারল্যান্ড-জিম্বাবুয়ে এবং অস্ট্রেলিয়া-ওমানের গ্রুপ পর্বের ম্যাচগুলো। এই ভেন্যুতেই তিনটি সুপার এইট ম্যাচও অনুষ্ঠিত হবে।

পাকিস্তানের অংশগ্রহণ এখনো অনিশ্চিত

শ্রীলঙ্কা যখন বিশ্বকাপ ঘিরে কড়া নিরাপত্তা প্রস্তুতি নিচ্ছে, তখনো টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে পাকিস্তানের অংশগ্রহণ নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটেনি। পিসিবির দাবি, বাংলাদেশকে বিতর্কিতভাবে টুর্নামেন্ট থেকে বাদ দেওয়ার প্রতিবাদে বাংলাদেশকে সমর্থন জানাতে পাকিস্তান সরকার এই অবস্থান নিয়েছে।

বর্তমানে পাকিস্তান অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলছে। সিরিজ শেষে খুব শিগগিরই বিশ্বকাপ নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে আশা করা হচ্ছে।